আইসিই এক্সচেঞ্জে চিনি সরবরাহ কমে ৩ বছরের সর্বনিম্নে

ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জ বা আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে (আইসিই) অপরিশোধিত চিনি সরবরাহ কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

গত শুক্রবার এক্সচেঞ্জের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবার মাত্র ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৩ টন চিনি সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের পর মে মাসের চুক্তিতে এটিই সর্বনিম্ন সরবরাহের রেকর্ড। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

পণ্যবাজারের তথ্যানুযায়ী, ৯ হাজার ৫২০ লটের সমপরিমাণ এ চিনির বড় অংশই আসবে ব্রাজিল থেকে। দেশটির সান্তোস, পারানাগুয়া ও মাসেইও বন্দর থেকে প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন চিনি জাহাজীকরণ করা হবে। এছাড়া মধ্য আমেরিকার পাঁচটি দেশ এবং মেক্সিকোর কোয়াটজাকোয়ালকোস বন্দর থেকে বাকি চিনি সরবরাহ করা হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের মে মাসে চিনি সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ হাজার লট। অথচ চলতি বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৫২০ লটে। অর্থাৎ প্রায় তিন ভাগেরও বেশি সরবরাহ কমেছে, যা ২০২২ সালের মে মাসের পর এবারই প্রথম। পণ্যবাজারে সাধারণত এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সরবরাহ কমে যাওয়াকে ইতিবাচক বা ‘বুলিশ’ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়। এর অর্থ ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাজার থেকে পণ্য কেনাবেচায় বেশি আগ্রহী এবং এক্সচেঞ্জ ব্যবস্থার বাইরে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ব্যবসায়িক সূত্র অনুযায়ী, ব্রাজিলীয় সমবায় প্রতিষ্ঠান কোপারসুকার নিয়ন্ত্রিত কোম্পানি ‘আলভিয়ান’ এ চালানের পুরো চিনি কিনে নিয়েছে। অন্যদিকে ফরাসি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘সুকডেন’ চিনির প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ টন চিনি সরবরাহ করেছে।

এ ঘাটতির খবর আসতেই বিশ্ববাজারে চিনির দাম বেড়ে গেছে। নিউইয়র্কের বাজারে গতকাল চিনির দাম ২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি পাউন্ড প্রায় ১৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সরবরাহ ঘাটতি বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ব্রাজিলের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা এবং সরাসরি বাজার থেকে পণ্য কেনার প্রবণতা চিনির বাজারকে আরো অস্থির করে তুলতে পারে। ফলে সামনের দিনগুলোয় খুচরা পর্যায়েও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও